২০২৩-২৪

আড়াই হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যবসা করেছে ওমেরা পেট্রোলিয়াম

গ্যাস সংকটের পাশাপাশি নতুন সংযোগ সুবিধা বন্ধ থাকার কারণে আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নির্ভরতা বাড়ছে।

গ্যাস সংকটের পাশাপাশি নতুন সংযোগ সুবিধা বন্ধ থাকার কারণে আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নির্ভরতা বাড়ছে। অন্যদিকে ধারাবাহিকভাবে এলপিজির দামও বাড়ছে। এর ফলে এলপিজি বিক্রি থেকে কোম্পানিগুলোর আয়ের পরিমাণও বাড়ছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এমজেএল বাংলাদেশ পিএলসির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান (সাবসিডিয়ারি) ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে এলপিজি ব্যবসা থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকারও বেশি আয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বেশি।

এমজেএল বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে ওমেরা পেট্রোলিয়ামের আয় হয়েছে ২ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ৬৫১ কোটি টাকা বা প্রায় ৩৫ শতাংশ। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির ২২৪ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা হয়েছে, যা গত বছরে ছিল ২০৯ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে ওমেরা পেট্রোলিয়ামের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা, আগের বছরে যা ছিল ৭৭ লাখ টাকা।

গত বছরের জুলাই থেকে এ বছরে জুন সময়ে এক বছরে দেশে এলপিজির দাম বেড়েছে ৩৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি মাসেই এলপিজির দাম সমন্বয় করে আসছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সংস্থাটির তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ছিল ৮৩ টাকা ২১ পয়সা। এরপর প্রতি মাসেই পণ্যটির দাম বেড়েছে। এ বছরের মার্চে এলপিজির দাম প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৫২ পয়সায় দাঁড়ায়। এরপর অবশ্য কিছুটা কমে এ বছরের জুনে দাঁড়ায় ১১৩ টাকা ৫৫ পয়সা। সর্বশেষ চলতি ডিসেম্বরের জন্য প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১২১ টাকা ২৫ পয়সায় নির্ধারণ করা হয়েছে, যা নভেম্বরেও একই ছিল।

এমজেএল বাংলাদেশ ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে ব্যবসা থেকে ৩ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা আয় করেছে। এর মধ্যে মূল ব্যবসা থেকে (লুব্রিক্যান্টস ও ট্যাংকার) ১ হাজার ৯১ কোটি, অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ওমেরা পেট্রোলিয়াম ২ হাজার ৫৩০ কোটি ও ওমেরা সিলিন্ডারের মাধ্যমে ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা আয় করেছে। ২০২২-২৩ হিসাব বছরে কোম্পানিটির আয় ছিল ৩ হাজার ৭২ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ৫৫৪ কোটি টাকা বা ১৮ শতাংশ। ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে এমজেএল বাংলাদেশের কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ২৭৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৭৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

এমজেএল বাংলাদেশ মূলত ইস্টকোস্ট গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইসি সিকিউরিটিজ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ। এমজেএল বাংলাদেশ শিল্প ও যানবাহনে ব্যবহৃত লুব্রিক্যান্টস অয়েল ও গ্রিজ সরবরাহ করে। তাছাড়া অয়েল ট্যাংকার ও অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলপিজি ও সিলিন্ডারের ব্যবসাও রয়েছে এমজেএল বাংলাদেশের।

ওমেরা পেট্রোলিয়ামে মূল কোম্পানি এমজেএল বাংলাদেশের ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। এছাড়া বিবি এনার্জি (এশিয়া) পিটিই লিমিটেডের কাছে ২৫ শতাংশ এবং ডাচ উন্নয়ন ব্যাংক এফএমওর কাছে ওমেরা পেট্রোলিয়ামের সাড়ে ১২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। বাগেরহাটের মোংলা শিল্প এলাকায় ওমেরা পেট্রোলিয়ামের মূল এলপিজি টার্মিনাল অবস্থিত। এছাড়া কোম্পানিটির বগুড়া, নরসিংদী ও চট্টগ্রামে তিনটি স্যাটেলাইট এলপিজি বটলিং প্লান্ট রয়েছে। কোম্পানিটির বার্ষিক উৎপাদনক্ষমতা তিন লাখ টন। বর্তমানে দেশের এলপিজি খাতের শীর্ষ কোম্পানি ওমেরা পেট্রোলিয়াম।

সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য ৫২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে এমজেএল বাংলাদেশের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে এমজেএল বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮ টাকা ৭১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮ টাকা ৭৩ পয়সা। গত ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা ৩ পয়সায়। ঘোষিত লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডায় বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন নিতে ১৯ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় ডিজিটাল প্লাটফর্মে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে।

চলতি ২০২৪-২৫ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এমজেএল বাংলাদেশের সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৪৩ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ৭০ পয়সা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে কোম্পানিটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৫১ টাকা ৪৬ পয়সায়।

২০১১ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এমজেএল বাংলাদেশের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৩১৬ কোটি ৭৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৮৮৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ৩১ কোটি ৬৭ লাখ ৫২ হাজার ২৭। এর ৭১ দশমিক ৫২ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ২০ দশমিক ৯৩, বিদেশী বিনিয়োগকারী ১ দশমিক ২৫ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

আরও